মেনু নির্বাচন করুন

অর্জনসমূহ

খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি

শিল্পকারখানা স্থাপন এবং আবাসন খাতে প্রতি বছরই ফসলী জমি কমলেও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে একর প্রতি উৎপাদন বৃদ্ধির কারণে খাদ্য শস্যের উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশাল এ জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা উপজেলায় উৎপাদিত খাদ্যে মেটানো সম্ভব হয়না বিধায় এটি একটি খাদ্য ঘাটতি উপজেলা। বর্তমানে এ ঘাটতি কমিয়ে আনার জন্য ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধির বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

 

কৃষি উপকরণ সহায়তা কার্ড বিতরণ কৃষকের ব্যাংক হিসাবঃ

কৃষকদের মধ্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ ও কৃষি ঋণ প্রদান সহজতর করার লক্ষ্যে কৃষি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অনুযায়ী জেলার ২৫০০৮ জন কৃষককে কৃষি উপকরণ সহায়তা কার্ড প্রদান করা হয়েছে এবং মাত্র ১০ টাকায় ২৪৩০০ টি কৃষক ব্যাংক একাউন্ট খোলা হয়েছে।

 

কৃষি পুনর্বাসন প্রনোদনা কর্মসূচীঃ

কৃষি পুনর্বাসন ও প্রণোদনা কর্মসূচীর আওতায় ২০১৯-২০ অর্থবছরে অত্র উপজেলায় ২২০ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে ভূট্টা, মুগডাল,সবজির বীজ ও সার বিনামূল্যে প্রদান করা হয়েছে। ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচীর আওতায় ৫০০ জন কৃষককে বোরো ধানের বীজ এবং সার সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

 

মান সম্মত বীজ ব্যবহার বৃদ্ধিঃ

প্রকল্প সহায়তার মাধ্যমে চাষী পর্যায়ে ধান,পাট ও গম ফসলের বীজ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিতরণ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করা হয়েছে। ২০০৮-০৯ হতে ২০১৮-১৯ সন পর্যন্ত উপজেলায় বিভিন্ন ফসলের মান সম্মত বীজ ব্যবহার ৭৫% বৃদ্ধি পেয়েছে।

 

সার ব্যবস্থাপনাঃ

সুষম সার ব্যবহার নিশ্চিতকল্পে এবং উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে বর্তমান সরকার চার দফায় সারের মূল্য হ্রাস করে কৃষকের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে নিয়ে এসেছেন। কৃষকের দ্বার প্রান্তে সার পৌঁছানোর জন্য উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে ৭৮ জন খুচরা সার বিক্রেতা নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এছাড়াও মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সবুজ সার তৈরি সহ বিভিন্ন জৈবসার যেমন খামারজাত সার এবং ভার্মিকম্পোষ্ট তৈরির পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

 

সেচ ব্যবস্থাপনাঃ

সেচ ব্যবস্থাপনা উৎপাদন বৃদ্ধির একটি প্রধান কৌশল। বর্তমানে পানি ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের মাধ্যমে ফিতা পাইপ প্রদর্শনীর মাধ্যমে সেচের কমান্ড এরিয়া বৃদ্ধি করা হচ্ছে। সেচ পানির পরিবহন অপচয় রোধ করা হচ্ছে।  AWD  পদ্ধতি ব্যবহার করার ফলে ধান ক্ষেতে সেচ কম লাগছে এবং ধানের ফলন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কৃষি ক্ষেত্রে বিভিন্ন যন্ত্রের ব্যবহার ফসলের উৎপাদন খরচ কমায়। তাই বর্তমান সরকার ৫০% -৭০% ভর্তুকি মূল্যে বিভিন্ন কৃষি যন্ত্রপাতি প্রকৃত কৃষকদের মাঝে বিতরণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।

 

শস্য বহুমূখীকরণ উচ্চমূল্য ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধিঃ

শস্য বহুমূখীকরণসহ উচ্চমূল্য ফসলের (ডাল, তৈল ও মসলা জাতীয় ফসল) উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য ৪% রেয়াতি হার সুদে কৃষি খাতে ঋণ বিতরণ করা হচ্ছে। এতে কৃষকগণ শস্য বহুমূখীকরণ ও উচ্চমূল্য ফসল চাষাবাদে উৎসাহিত হচ্ছে এবং উচ্চ মূল্য ফসল উৎপাদনের প্রযুক্তি সম্প্রসারিত হচ্ছে।

 

নিরাপদ সব্জি ফল উৎপাদনঃ

নিরাপদ সব্জি ও ফল উৎপাদনের লক্ষ্যে উপজেলার প্রতিটি ব্লকে একটি করে ফল ও সব্জি গ্রাম নির্বাচনপূর্বক দল ভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রদানসহ প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে উপজেলায় নিরাপদ সব্জি ও ফল উৎপাদন নিশ্চিত করবে।

 

সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমঃ

ফসল উৎপাদনে বালাইনাশকের যৌক্তিক ব্যবহার নিশ্চিত এবং পরিবেশ দুষনমুক্ত রাখতে আইপিএম প্রযুক্তি প্রয়োগকে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

 

 ফল বাগান সৃজন ব্যবস্থাপনা কর্মসূচীঃ

খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তার লক্ষ্যে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে নতুন নতুন ফল বাগানসৃজনসহ স্থায়ী ফলবাগানের পরিচর্যার উপর বিশেষ কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে।  

 

তথ্য প্রযুক্তির প্রসারঃ

সরকারের ডিজিটাল কর্মসূচির আওতায় উপজেলায় বিভিন্ন ধরণের আইসিটি ভিত্তিক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। মাঠে বাস্তবায়িত বিভিন্ন সম্প্রসারণ কর্মকান্ডের সুষ্ঠু বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার জন্য মোবাইল মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। তাছাড়া প্রশিক্ষণে মাল্টিমিডিয়া ব্যবহার করা হচ্ছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন কমপেস্নক্সে স্থাপিত কৃষক তথ্য ও পরামর্শ কেন্দ্রগুলোতে আইসিটি ভিত্তিক কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে। এছাড়া উপজেলা অফিসকে উচ্চগতির wifi Network  এর আওতায় আনা হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কর্তৃক উদ্ভাবিত কৃষকের জানালা, কৃষকের ডিজিটাল ঠিকানা, ই-বালাইনাশক প্রেসকিপশনসহ অন্যান্য কৃষি বিষয়ক অ্যাপস্ সমূহ ব্যবহার করে কৃষকদের সেবা প্রদান করা হচ্ছে।

 

বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে সম্প্রসারণ সেবা প্রদানঃ

কৃষকদেরকে সম্প্রসারণ সেবা প্রদানের লক্ষ্যে অত্র উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ৮টি প্রকল্প চলমান রয়েছে। প্রকল্পগুলোর আওতায় প্রশিক্ষণ, প্রদর্শনী স্থাপন, মাঠদিবস, উদ্বোদ্বকরণ ভ্রমন ইত্যাদি কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে।